আমাদের বাড়িতে বাবার তৈরী একটা File আছে। যার
ওপরে লেবেল করা "রংগনের লেখা"। এর মধ্যে কুট্টির লেখা যাবতীয় সংবাদপত্রের
পাতা সংরক্ষিত হয় আজও... বাবার থেকে আমার ছোট কাকা রংগন চক্রবর্তী প্রায়
পনেরো বছরের ছোট। হয়তো বয়েসের ফারাকের কারণেই সন্তানের সাফল্যে
বাবা মায়ের যে আবেগ কাজ করে বাবার ও ঠিক সেই সেন্টিমেন্ট থেকেই এই File
সংরক্ষণ। শুনেছি কুট্টি নাকি ছোটবেলা থেকেই ছড়া বল, বললেই গড় গড় করে ছড়া
বানিয়ে বলে যেত। বাবা একটা খাতায় সেগুলো সব লিখে রাখত। যখের ধনের মতো আজও
বাবা এরকম আনেক আবেগে মাখানো কাগজের টুকরো আগলে রাখেন। "বাড়ি তার বাংলা"
দেখতে দেখতে দেখি রূপু (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) বলছে-
" আমি ছড়া বলতাম, আর মা লিখে রাখতো।"
"মা তো কিছু ফেলে না।"
রূপুর মায়ের চরিত্রের সঙ্গে আমার বাবার এতো মিল খুঁজে পেয়ে মনে হয় যেন আমি কুট্টি কে নতুন করে আরও কাছ থেকে চিনলাম। সকলের প্রকাশ এক হয় না। অনেকে সামনে দেখা হলেই জড়িয়ে ধরেন, আনেক মিষ্টি কথা বলে কোথাও একটা আমাদের মনে জায়গা করে নেন। আবার কারোর অনেক গভীরে এক সমুদ্র ভালোবাসা নিয়েও যেন জড়িয়ে ধরতে বাধে...কিন্তু শিল্পী হলে এই একটা সুবিধা , কবিতা, গানে, ছবি বা চলচ্চিত্রে নিজস্ব আবেগগুলো গল্পের মতো প্রকাশ করা যায়।
এ ছবির মুখ্য চরিত্রটি কুট্টির মতোই Brilliant এবং Complex ও বটে। অসাধারণ একটা idea. হাসির মোড়কে যেন বাঙালীর সবকটা crisis কে ছুঁয়ে গেল 'বাড়ি তার বাংলা'। এতো গভীর ভাবনা, এতো entertaining সংলাপ, অপূর্ব গান ও প্রত্যেকের অভিনয়; সত্যিই আমার কাকা না হয়ে অন্য কেউ হলেও সবাইকে দেখতে বলতাম, একটু ভাবতে বলতাম। গানের লেখনী নিয়ে কোন কথা হবে না,অভিনব এবং অভাবনীয়। অপুদা (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) চরিত্রটি যা যা demand করে তার থেকে বেশী ছাড়া কম নন। এরকম সংলাপ ঠিক সেরকম delivery তে না ছাড়লে এতোটা হাসি নাও পেতে পারত।একই মানুষকে দিয়ে চার মাস থেকে প্রায় চল্লিশ বছর play করানো এক অভিনব ব্যাপার। পরিচালকের কাছে এর ব্যাখ্যাটা আরও impressive. Psychiatrist যখন রোগীর কাছ থেকে তাঁর ছোটবেলার গল্প শুনবেন তখন সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখতে একটি বাচ্চাকে কল্পনা করবেন কেন !! তিনি তাঁর মুখের আদল বসিয়েই কিছু একটা কল্পনা করবেন নিশ্চয়ই। এই ভাবনাগুলোই তো আগে কেউ ভাবিনি আমরা। অনিরুদ্ধ চাক্লাদারের styling আরও আকর্ষনীয় করে তুলেছে মানসিক চিকিৎসকের চরিত্রে রাইমাকে। গানের সুর ও দৃশ্যায়ন প্রত্যেকটাই আলাদা এবং স্বতন্রভাবে সুন্দর। রূপুর মায়ের চরিত্রে তুলিকা বসু খুব আন্তরিক ও সূক্ষ্ম। শান্তিলাল মুখার্জীও কোনরকম অতিরিক্ত অভিনয়ের ধার কাছ দিয়ে যান নি। ঠিক যা চাই তাই করেছেন। তবে রূপু নিজের বয়েসে পৌঁছনোর পর বেশীদিন শান্তি দা বা তুলিকা দি কে বাঁচিয়ে রাখা যায়নি...বয়েসের পার্থক্য টা বেশ কম হয়ে যাচ্ছিল তো! তবু যেটুকু সময় তাঁরা পর্দায় ছিলেন অভিনয় গুনে তা মোটামুটি ভুলিয়েই রেখেছিলেন প্রত্যেকে। আমি অনেকদিন ধরেই সুমিত সমাদ্দারের অভিনয়ের ভক্ত। এ ছবিতে তিনি messiahর মত বারবার যেন নতুন কোন আশা নিয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁর অভিনয়, বিশেষ করে timing মুগ্ধ করে। 'খোলা মাঠে খোলা মাঠে...' গানটিতে বাউলের ভূমিকায় শমীক সিংহ অনবদ্য। ছোট ছোট চরিত্রে আনেক অজানা শিল্পী কে দেখলাম যাঁদের খুব ঠিক ঠিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। খুঁতের মধ্যে একটাই- অপ্রাসঙ্গিক Senco Gold. বাধ্য হয়ে দেওয়া বিজ্ঞাপনটি ব্যাতিরেকে বাকী সব বিজ্ঞাপনের স্লোগান এখন মুখে মুখে ফিরবে...কয়েকটি কানে কানে...দুষ্টু কথাও আছে কি না। তবু বলব না যে এ ছবি পরিবারের সঙ্গে দেখা বারণ। বরং সপরিবারে এখন আমরা বাড়ি তার বাংলার ঘোরে আছি। থেকে থেকে এই সংলাপ সেই সংলাপ আওড়াচ্ছি...জানি আরও অনেক কিছু মাথায় আসবে লেখাটা post করার পরেও... কিন্তু আর লেখা বাড়ালে কেউ পড়বে না, আমি তো আর রংগন চক্রবর্তী নই। তাই এইটুকুই থাক।
" আমি ছড়া বলতাম, আর মা লিখে রাখতো।"
"মা তো কিছু ফেলে না।"
রূপুর মায়ের চরিত্রের সঙ্গে আমার বাবার এতো মিল খুঁজে পেয়ে মনে হয় যেন আমি কুট্টি কে নতুন করে আরও কাছ থেকে চিনলাম। সকলের প্রকাশ এক হয় না। অনেকে সামনে দেখা হলেই জড়িয়ে ধরেন, আনেক মিষ্টি কথা বলে কোথাও একটা আমাদের মনে জায়গা করে নেন। আবার কারোর অনেক গভীরে এক সমুদ্র ভালোবাসা নিয়েও যেন জড়িয়ে ধরতে বাধে...কিন্তু শিল্পী হলে এই একটা সুবিধা , কবিতা, গানে, ছবি বা চলচ্চিত্রে নিজস্ব আবেগগুলো গল্পের মতো প্রকাশ করা যায়।
এ ছবির মুখ্য চরিত্রটি কুট্টির মতোই Brilliant এবং Complex ও বটে। অসাধারণ একটা idea. হাসির মোড়কে যেন বাঙালীর সবকটা crisis কে ছুঁয়ে গেল 'বাড়ি তার বাংলা'। এতো গভীর ভাবনা, এতো entertaining সংলাপ, অপূর্ব গান ও প্রত্যেকের অভিনয়; সত্যিই আমার কাকা না হয়ে অন্য কেউ হলেও সবাইকে দেখতে বলতাম, একটু ভাবতে বলতাম। গানের লেখনী নিয়ে কোন কথা হবে না,অভিনব এবং অভাবনীয়। অপুদা (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) চরিত্রটি যা যা demand করে তার থেকে বেশী ছাড়া কম নন। এরকম সংলাপ ঠিক সেরকম delivery তে না ছাড়লে এতোটা হাসি নাও পেতে পারত।একই মানুষকে দিয়ে চার মাস থেকে প্রায় চল্লিশ বছর play করানো এক অভিনব ব্যাপার। পরিচালকের কাছে এর ব্যাখ্যাটা আরও impressive. Psychiatrist যখন রোগীর কাছ থেকে তাঁর ছোটবেলার গল্প শুনবেন তখন সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখতে একটি বাচ্চাকে কল্পনা করবেন কেন !! তিনি তাঁর মুখের আদল বসিয়েই কিছু একটা কল্পনা করবেন নিশ্চয়ই। এই ভাবনাগুলোই তো আগে কেউ ভাবিনি আমরা। অনিরুদ্ধ চাক্লাদারের styling আরও আকর্ষনীয় করে তুলেছে মানসিক চিকিৎসকের চরিত্রে রাইমাকে। গানের সুর ও দৃশ্যায়ন প্রত্যেকটাই আলাদা এবং স্বতন্রভাবে সুন্দর। রূপুর মায়ের চরিত্রে তুলিকা বসু খুব আন্তরিক ও সূক্ষ্ম। শান্তিলাল মুখার্জীও কোনরকম অতিরিক্ত অভিনয়ের ধার কাছ দিয়ে যান নি। ঠিক যা চাই তাই করেছেন। তবে রূপু নিজের বয়েসে পৌঁছনোর পর বেশীদিন শান্তি দা বা তুলিকা দি কে বাঁচিয়ে রাখা যায়নি...বয়েসের পার্থক্য টা বেশ কম হয়ে যাচ্ছিল তো! তবু যেটুকু সময় তাঁরা পর্দায় ছিলেন অভিনয় গুনে তা মোটামুটি ভুলিয়েই রেখেছিলেন প্রত্যেকে। আমি অনেকদিন ধরেই সুমিত সমাদ্দারের অভিনয়ের ভক্ত। এ ছবিতে তিনি messiahর মত বারবার যেন নতুন কোন আশা নিয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁর অভিনয়, বিশেষ করে timing মুগ্ধ করে। 'খোলা মাঠে খোলা মাঠে...' গানটিতে বাউলের ভূমিকায় শমীক সিংহ অনবদ্য। ছোট ছোট চরিত্রে আনেক অজানা শিল্পী কে দেখলাম যাঁদের খুব ঠিক ঠিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। খুঁতের মধ্যে একটাই- অপ্রাসঙ্গিক Senco Gold. বাধ্য হয়ে দেওয়া বিজ্ঞাপনটি ব্যাতিরেকে বাকী সব বিজ্ঞাপনের স্লোগান এখন মুখে মুখে ফিরবে...কয়েকটি কানে কানে...দুষ্টু কথাও আছে কি না। তবু বলব না যে এ ছবি পরিবারের সঙ্গে দেখা বারণ। বরং সপরিবারে এখন আমরা বাড়ি তার বাংলার ঘোরে আছি। থেকে থেকে এই সংলাপ সেই সংলাপ আওড়াচ্ছি...জানি আরও অনেক কিছু মাথায় আসবে লেখাটা post করার পরেও... কিন্তু আর লেখা বাড়ালে কেউ পড়বে না, আমি তো আর রংগন চক্রবর্তী নই। তাই এইটুকুই থাক।
No comments:
Post a Comment